বর্তমান সময়ে একজন সচেতন শিক্ষিত মানুষ হয়েও কেন আপনি নিজেকে একজন ফেমিনিস্ট বলে দাবি করেন না ?
*বড় টিপ পড়া ,কালো কাজল দেয়া একটা মেয়ে সিগারেট খাচ্ছে।
*মেয়েরা বোরখা কেন পড়ে? এটা নিয়ে সে কারো সাথে কুতর্ক করছে।
* মেয়েদের দৈহিক চাহিদা বিষয়ক আলাপ করছে, ( (ইটস হার চয়েজ টাইপ আলাপ)
![]() |
| এখানে অনেকেই তসলিমা নাসরিন কে চিন্তা করতে পারে, এবং যেহেতু তিনি এ দেশে বেশ বির্তকিত মানুষ তাই নারীবাদ নিয়ে চিন্তা করার আগেই সবাই তসলিমা নাসরিনের মতন বির্তকিত মানুষ নিয়ে চিন্তা করেন। |
সমস্যা টা শুরুও হয় এখান থেকে আপনি নারীবাদ নিয়ে চর্চা না করে, তসলিমা নাসরিন কি করছে, কি বলছে সেটা নিয়ে আলোচনা করছেন। এবং এর সাথে সাথেই আপনি মূল নারীবাদের আলোচনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। তার ফলেই আসল নারীবাদের বদলে আপনি তসলিমা নাসরিনের মতন এক বির্তকিত ফেমিনিস্ট এর এই ইমেজ কল্পনা করছেন।
এখন এই ইমেজ কতটুকু ভালো বা খারাপ সেটা একটা ডিবেটবল বিষয়। তবে এই ইমেজের ফলে এমন হইসে, যে একটা সাধারন ছেলে ফেমিনিজম বা নারীবাদে বিশ্বাস রাখার পরও সবার সামনে বলে যে, “না ভাই, আমি ফেমিনিস্ট না, ফেমিনিজম ইজ আ ক্যান্সার।
এমন টা আমি শুধু শুধুই বলতেসি না, আমার অনেক শিক্ষিত জ্ঞানী গুনি বন্ধুদের সাথে আলাপ করে এমন ধারণা পাইসি।
নারীবাদীদের জেনারেলাইজ করে এরকম একটা ইমেজ কীভাবে তৈরি হল?
এর প্রধানত ৩ টা কারণ আমার মনে হয়।
১। নারীবাদ আন্দোলন সম্পর্কে অজ্ঞতা।
এখন নারীবাদ কি? সেটাই যদি আপনি না জানেন তাহলে সেটা নিয়ে কথা বলার ও কোনো মানে হয় না। কোনো একটা টপিক নিয়ে ক্রিটিক করতে হলে সেটা সম্পর্কে মিনিমাম একটা জ্ঞান আপনার থাকতে হবে। সেই জ্ঞান টুকু না নিয়াই যদি আপনি ফেমিনিস্টদের গালি গালাজ করা শুরু করেন সেটা সম্পূর্ন অর্থহীন।
আগে জানেন তারপর ক্রিটিক করেন।
নারীবাদী বা ফেমিনিস্ট হওয়ার অনেক ডেফিনেশন আছে, তার মধ্যে এই ডেফিনেশন টা আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ,
নারীবাদ হলো এমন এক ধরনের আন্দোলন, যেই আন্দোলন এর ফলে নারীরা তাঁদের সমঅধিকার আদায় করে। এখন আপনি যদি এই আন্দোলন কে সাপোর্ট করেন তাহলেই আপনাকে একজন নারীবাদী বলা যায়।
এই সম অধিকার টা তাদের ন্যায্য অধিকার। অর্থাৎ পুরুষের সমান অধিকার, মানুষ হিসেবে সমান প্রিভিলেজ পাওয়ার অধিকার। (৩য় এবং ৪র্থ ঢেউ এর ব্যাপার এখানে প্রযোজ্য না)।
তাই আমার মতে, বাংলাদেশের সচেতন বেশীর ভাগ পুরুষই ফেমিনিস্ট। কিন্তু ফেমিনিসস্টদের ওই জেনারেলাইজড করা ইমেজ আর নিজের অজ্ঞতার কারণে তারা নিজেদের কে ফেমিনিস্ট দাবি করতে পারে না।
২।ফেসবুকে উগ্রনারীবাদী লেখালেখি।
বাংলাদেশে মেজরিটি নারীবাদীরা উগ্র কিনা সেটা অনেক কিছুর উপর ডিপেন্ড করে। অনেকের কাছে নিজের কম্ফোর্ট জোনের বাইরে কোনো মতামত গেলেই সেটা উগ্রবাদ, বা কট্টর হয়ে যায়।
আবার যেহেতু আমাদের দেশের মেজরিটি মানুষ সো কল্ড “ধর্মপ্রান” ফলে তারা বিয়ের আগে প্রেম করতে পারে তবে ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীবাদ সহ্য করতে পারে না। এ ধরনের হিপোক্রেটদের সংখ্যাও কম না। আর এই হিপোক্রেট রাই বেশি লাফায়।
তবে আমার নিজের কাছেও কিছু কিছু বিষয় বেশ হাস্যকর এবং কট্টর লাগে। সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে যেয়ে , “বোরখা পড়া এক মা এর তার বাচ্চার সাথে ক্রিকেট খেলা”র মতন ব্যাপার নিয়ে ডিবেট করাটা বেশ অস্বস্তিকর। পোশাকের মধ্যে মা খুঁজতে যাওয়া আমার মতে সঠিক কাজ না।
আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশ এমন একটা দেশ যেখানে বেশীর ভাগ মানুষই জ্ঞান বিমুখ। সোজা কথায় তারা জ্ঞান চর্চা করতে চায় না। ফলে কিছু না জেনেই গলা উচায়া বলে , “ফেমিনিজম ইজ আ ক্যান্সার”
এরকম একটা সময়ে নারীবাদীদের দরকার ছিলো একটু সংবেদনশীল হওয়া। সাধারন মানুষ কে কনভিন্স করা। সবাই কে নারীবাদ আন্দোলন সম্পর্কে জানানো। এই আন্দোলনের লক্ষ্য এবং উদ্দ্যেশ, কি কারণে নারীদের পুরুষের সমান অধিকার দরকার? এই বেসিক ব্যাপার গুলো নিয়েই আজকে বেশি আলোচনা করা দরকার ছিলো।
সেই সচেতন করার ব্যাপারে আসলে আমরা ব্যার্থ। বাংলাদেশে নারীবাদীদের এটাই সবচেয়ে বড় ব্যার্থতা বলে আমি মনে করি। তারা পশ্চিমা দেশের সাথে তাল মিলাইতে গিয়া মিটু মুভমেন্ট, মাই বডি মাই চয়েজ এর মতন ব্যাপার নিয়ে কথা বলতে গেসেন। তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা টা কোথায়?
যেখানে মেয়েরা রাস্তায় নিরাপদে চলাচল করতেই ভয় পায় সেখানে আপনি ফ্রিডম অফ চয়েজের মতন বিষয় নিয়ে আন্দোলন করলে আলটিমেটলি লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়।
৩। নারীবাদের ৩য় এবং ৪র্থ তরঙ্গ বির্তকিত হওয়া। ( Feminism 3rd & 4th wave )
এই কারণটা নিয়ে আমি অনেকের সাথেই আলাপ করি, যেমন অনেকের সাথেই আমার মাঝে মধ্যে নারীবাদের ৪র্থ ঢেউ এর ফলাফল যেমন মি টু মুভমেন্ট , নিয়ে তর্ক লাগে। এই ক্ষেত্রে নারীবাদী হওয়া সত্বেও আমি নিজেই কিছু কিছু ব্যাপার সাপোর্ট করতে পারি না। এবং এটা নিয়ে সমালচনাও আমার কাছে জায়েজ মনে হয় কারণ এই ওয়েভ রানিং একটা ব্যাপার। মানে এখনো চলছে।
এবং এখানেই সবচেয়ে গুরত্বপূর্ন ব্যাপার, আপনি নারীবাদের ৩য় বা ৪র্থ ঢেউ সাপোর্ট নাই করতে পারেন, তাই বলে পুরো নারীবাদ আন্দোলন করে প্রশ্নবিদ্ধ করে নিজেকে একজন নন ফেমিনিন্সট দাবি করা আদৌ সম্ভব?
নারী অধিকার মানে মানব অধিকার এবং আমি মনে করি সেই যুক্তিতে পৃথিবীর সব সচেতন মানুষই একজন নারীবাদী, একজন ফেমিনিস্ট।
শেষ কথা............
এরকম একটা সংবেদনশীল, ধর্মপ্রান উন্নয়নশীল দেশে নারীবাদ আন্দোলন বেশ কষ্টসাধ্য।বাংলাদেশে নারীবাদীদের আরো অনেক পথ পাড়ি দেয়া বাকি। আরো অনেক আন্দোলন করা বাকি। এবং এই আন্দোলন টা একা করা সম্ভব না। জনমানুষ কে নিয়েই করতে হবে।
এবং দুর্ভাগ্যক্রমে এই জনমানুষ অসেচতন। তাদের কে আগে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেন, এটলিস্ট ফেমিনিজম মুভমেন্ট নিয়ে বেসিক জ্ঞান টা দান করেন তারপর না হয় তাদের সাথে ডিবেট করেন। মূর্খের সাথে তর্ক করে নিজে ওই মূর্খের জায়গায় নামার কোনো মানে হয় না।
( এই লেখা টা নতুন করে এডিট করে লিখছি, যাদের নারীবাদ নিয়ে আগে পড়াশুনা নেই তাদের এই লেখা পরে মন্তব্য না করাই ভালো। কারণ অনেকেই না বুঝে কমেন্ট করছেন, এটা কোনো জ্ঞান চর্চা মূলক লেখা নয়, কেন আমাদের দেশের মানুষ নারীবাদ কে ঘৃণা করে তার কিছু কারণ বিশ্লেষণ। আমি আশা করছি এই লেখা টা পরে আপনি নিজ থেকে নারীবাদ নিয়ে চর্চা করবেন, এবং অবশ্যই একটা ইন্টালেকচুয়াল দৃষ্টি থেকে নারীবাদের ৩য় এবং ৪র্থ তরঙ্গ নিয়ে সমালচনা করবেন)

সুন্দর লেখা তূর্য <3 <3
ReplyDeleteধন্যবাদ, নাম দেখা যাইতেসে না নাইলে আরো বেশি ধন্যবাদ দেয়া যাইত। <3
DeleteA lonely boy.
Deleteভালো লিখেছিস,
ReplyDeleteআরও লিখবি।
ধন্যবাদ বন্ধু, এখন ওয়েব সাইট ডিজাইনিং এর বুদ্ধি দাও।
Deleteতোর এই লেখা পড়ে বুঝলাম তাহলে আমিও নারীবাদী।❤
ReplyDeleteআমার লেখার উদ্দ্যেশ্য ও এটা ছিলো।
Deleteভালো লেখা ❤
ReplyDelete<3 <3 <3
Delete💜💜💜💜💜💜💜💜💜💜💜💜
ReplyDeleteFaminism is Cancer নামে একটা গ্রুপ আছে ফেসবুকে, তারা যাতা লেখে গ্রুপ পোস্টে। এই লেখা তাদের পড়ানো উচিত। খুব ভালো লেখা♥
ReplyDeleteঅনেক অনেক ধন্যবাদ। <3
Deleteতবে ওই গ্রুপে যারা আছে তাঁদের যুক্তি দিয়ে বোঝানো গেলে আসলেই খুব ভালো হত। কিন্তু এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী নই। আপনি চেষ্টা করতে পারেন। আমি লাগলে ব্যাক আপ দিবো। হি হি...
Wonderful. I haven't read such amazing writing for many days. Well done. Hope you'll write more in future ��
ReplyDelete